বিজ্ঞান জগৎ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিজ্ঞান জগৎ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১২

স্টিফেন হকিংসের মতে- কুনু হেভেন বা মৃত্যু পরবর্তী জীবন নেই

স্টিফেন হকিং সাহেব বলেছেন, হেভেন বা আফটারলাইফ এর কোন অস্তিত্ব নাই। তিনি বলেন মৃত্যু পরবর্তী জীবন এবং হেভেন একটা গল্প ছাড়া কিছুই নয়। যারা মৃত্যু ভয় পায় তারাই এটা বিশ্বাস করে। হকিং মারাত্মক অনারগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ বছর বয়স থেকে। এই রোগের কারনে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই তার মৃত্যু আশা করা হয়েছিল। কিন্তু এই রোগ তাকে একটি আরও বেশি আনন্দদায়ক জীবনের দিকে নিয়ে যায়। তিনি বলেন - আমি ৪৯ বছর যাবত মৃত্যুর সাথে লড়ে যাচ্ছি। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। কিন্তু এ ব্যাপারে আমার তাড়াহুড়ো নেই। আমার অনেক কিছু করার ইচ্ছা আছে। তিনি মানুষের জীবনকে একটি কম্পিউটারের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন যখন এর উপাদান গুলো নষ্ট হয়ে যাবে তখন কাজ করা থেমে যাবে।
তিনি এক সাক্ষাতকারে আরও প্রশ্নের জবাব দেন ।


Read more »

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ইন্টারনেটে বাংলা লেখার পদ্ধতি


নুরুন্নবী চৌধুরী:: কম্পিউটারে প্রযুক্তি যত এগিয়েছে, বেড়েছে এর সহজ ব্যবহার। সারা বিশ্বের প্রযুক্তিপ্রেমীরা আগ্রহী থাকেন নিজের ভাষায় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে। আর ইন্টারনেটে নিজের ভাষা লেখা বা নিজের ভাষায় কোনো কিছু প্রকাশের সুবিধা তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন অনেকেই।তাঁরা তৈরি করেন ছোট ছোট কিছু প্রোগ্রাম, যা টুলস নামে পরিচিত। ইন্টারনেটে এখন বাংলা লেখার জন্য রয়েছে দারুণ কিছু প্রোগ্রাম।
কম্পিটারে বাংলা লেখার জন্য আগে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হতো।সমস্যা ছিল এক কম্পিউটারে বাংলা লিখে অন্য কোনো কম্পিউটারে নিয়ে গেলে তা দেখা যেত না; যদি না কম্পিউটারে ওই নির্দিষ্ট সফটওয়্যারটি ইনস্টল করা থাকত। আন্তর্জাতিক সংকেতায়ন ব্যবস্থা ইউনিকোড ৩.০-এ বাংলা ভাষা যুক্ত করার পর ইউনিকোড সমর্থন করে এমন সব অপারেটিং সিস্টেম এবং সব সফটওয়্যারেই এখন বাংলা দেখা ও লেখা সহজ। এ সুবিধাটি কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক ইউনিকোডভিত্তিক প্রোগ্রাম, যা দিয়েইন্টারেনেটে সহজেই বাংলা লেখা ও পড়া যায়।

বাংলা টুলস
ইন্টারনেটে বাংলা লেখার সফটওয়্যার অভ্র। ওমিক্রন ল্যাবের তৈরি এই মুক্ত সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বাংলা লেখা যায় নানা কি-বোর্ড লে-আউট ব্যবহার করে। ইউনিকোড সমর্থিত অভ্র কি-বোর্ডে রয়েছে অভ্র ফোনেটিক, অভ্র ইজি, বর্ণনা, ন্যাশনাল (জাতীয়) ও মুনির, প্রভাত কি-বোর্ড লে-আউট। এর মধ্যে যেকোনো একটি ব্যবহার করে বাংলা লেখা যায়। রয়েছে এর বহনযোগ্য সংস্করণ (পোর্টেবল অ্যাডিশন)। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের পছন্দের লে-আউটও বানানোর সুবিধা আছে অভ্রতে। কি-বোর্ডে F12 বা নির্দিষ্ট নির্বাচিত কি-বোর্ড লে-আউট চেপে কি-বোর্ড বাংলা বা ইংরেজি করে নেওয়া যায়। অভ্রতে আছে নতুন বানান পরীক্ষক। এতে যুক্ত হয়েছে এএনএসআই টাইপিং সুবিধা। ফলে অ্যাডোব ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটরসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারে সহজে বাংলা লেখা যাবে। এ ছাড়া নতুন সংস্করণে আছে কনভার্টার টুল। এর মাধ্যমে ইউনিকোডে লেখা ফরম্যাটিং ছাড়াই সাধারণ লেখাকে এএনএসআইতে রূপান্তর করা সম্ভব। যাঁরা কি-বোর্ডে লিখতে চান না তাঁদের জন্য রয়েছে আলাদা লে-আউট, যেখানে মাউস দিয়ে লেখা যাবে। অভ্রের অন্যতম নির্মাতা মেহেদী হাসান খান জানান, সাধারণ ব্যবহাকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই অভ্রে যুক্ত হচ্ছে নানা সুবিধা। অভ্র বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েডসহ বিভিন্ন অপারেটিংসিস্টেমের জন্য তৈরি হচ্ছে।
অভ্র ৫.১.০ পাওয়া যাবে www.omicronlab.com/avro-keyboard.html ঠিকানার ওয়েবসাইটে।

রয়েছে রূপান্তরের সুবিধা
প্রচলিত বাংলা থেকে ইউনিকোড বাংলায় রূপান্তর করার প্রোগ্রামের (কনভার্টার) জনপ্রিয়তাও ইন্টারনেটে বেশ। প্রচলিত বাংলা লেখাকে ইউনিকোডে রূপান্তরের সুবিধা দিচ্ছে bnwebtools.sf.net ওয়েবসাইট।এস এম মাহবুব মুর্শেদ এবং অরূপ কামালের তৈরি এ টুলসটিতে প্রভাত, অভ্র, বর্ণসফট লে-আউটে ইউনিকোডে লেখা যাবে। এ ছাড়া প্রচলিত বাংলায় বৈশাখী, বংশী, বর্ণসফট, ফোনেটিক লে-আউটে লিখেও ইউনিকোডে রূপান্তর করা যাবে। অর্থাৎ ইউনিকোড বক্সে লিখে সাধারণ প্রচলিত বাংলায় যেমন রূপান্তর করা যাবে, তেমনি সাধারণ প্রচলিত বাংলায় লিখে ইউনিকোডেও রূপান্তর করা যাবে। এ ছাড়া ইচ্ছা করলে এ কনভার্টার বক্সে লিখে সেটিকে ইন্টারনেটে ব্যবহার করা যাবে।এ ব্যাপারে এস এম মাহবুব মুর্শেদ জানান, ব্যক্তিগত প্রকল্প হিসেবে বাংলা সংখ্যা থেকে ভয়েসে রূপান্তর করার প্রোগ্রাম এবং একটা উইন্ডোজের জন্য প্রচলিত বাংলা থেকে ইউনিকোড বাংলা কনভার্টার বানানো হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাজে লাগবে এ ভাবনা থেকেই এটি তৈরি।

আরও কত কি!
বাংলা লেখার ক্ষেত্রটা এখন অনেক বেশি। ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ সাইটে বাংলা লেখার ক্ষেত্রটি সহজ হয়েছে বিভিন্ন টুলসের মাধ্যমে। এসব টুলসের পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের ইউনিকোড ফন্টও। ২০০৫ সাল থেকে বিজয় ইউনিকোড ফন্ট চালু আছে। কম্পিউটারে জনপ্রিয় বিজয় সফটওয়্যারের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আনন্দ কম্পিউটার্সের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার ফোনেটিক পদ্ধতিতে বাংলা লেখা সম্পর্কে বলেন, রোমান হরফে বাংলা লেখার মাধ্যমে আমরা ঠিক কোথায় পৌঁছতে চাই, তা ঠিক আমার বোধগম্য নয়। ইউনিকোড এবং বাংলা দুটি একই মান নয়; তার পরও বিজয় দুটি মানই সমর্থন করে। এ ছাড়া বিজয়ের অনেক ইউনিকোড ফন্ট রয়েছে।
ব্লগ বা সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে বাংলা লেখা সহজ করে দিচ্ছে বাংলা ডট ওআরজি ডট বিডি (www.bangla.org.bd)। ২০০৬ সালে এই সাইটের বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেন সাজেদ চৌধুরী ও আহমেদ আরিফ সিরাজী। এ সাইটে অভ্র, প্রভাত, ইউনিজয়সহ পাঁচ ধরনের কি-বোর্ড লে-আউটে সরাসরি বাংলা লেখা যায়। লেখাটি কপি করে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পেস্ট করে দিলেই হয়। অনলাইনে সব সুবিধা আছে বলে কম্পিউটারে আলাদা করে সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। রয়েছে বানান পরীক্ষার ব্যবস্থা। আহমেদ আরিফ সিরাজী জানান, এই ওয়েবসাইটটির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলা লেখা সহজ করা, বিশেষ করে করপোরেট ব্যবহারকারী, সাইবার ক্যাফে ব্যবহারকারী এবং নতুনদের জন্য এটি বেশ সহায়ক। যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমে যেকোনো ব্রাউজারের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করা যায়। চলতি মাসেই স্মার্টফোনে বাংলা লেখার বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
অনেকেই মোবাইল ফোন থেকে বাংলা লিখতে পারেন না বিল্ট-ইন সুবিধার অভাবে। আর এমন সব সুবিধা নিয়ে রয়েছে সাদা খাতা ফোনেটিক বাংলা কনভার্টার (www.sadakhata.binhoster.com)। এর মাধ্যমে যেকোনো যন্ত্র থেকে বাংলা লেখা যাবে সফটওয়্যার না নামিয়েই। এই সাইটে রয়েছে ফোনেটিক কিম্যাপ লিংক, যার মাধ্যমে রোমান হরফে বাংলা লিখে‘মায়াবী বাংলায় রূপান্তর’ বাটনে চাপলেই নিচের টেক্সটবক্সে ইউনিকোড বাংলায় রূপান্তর হয়ে যাবে। মোবাইল ফোন, পার্সোনাল কম্পিউটার, ম্যাকবুক, আইপ্যাডসহ বিভিন্ন যন্ত্রে এটি ব্যবহার করা যাবে।
রয়েছে বেশ কিছু স্ক্রিপ্ট, যেগুলো বর্তমানে প্রায় বাংলা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনেই ব্যবহার করে হচ্ছে। ওয়ার্ডপ্রেস বাংলা লেখার জন্য কিছু প্রোগ্রাম (প্লাগ-ইনস) তৈরি করেছিলেন হাসিন হায়দার। তিনি জানান, নিয়মিতভাবে এগুলো অনেকেই ব্যবহার করছেন। সবার কাজের জন্য এর হালনাগাদও নিয়মিত করা হয় বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া একুশে (www.ekushey.org) সাইটে রয়েছে বিভিন্ন ফন্ট এবং লে-আউট। বাংলা নিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয় এতে। বিভিন্ন ধরনের মুক্ত সফটওয়্যারের স্থানীয়করণ (লোকালাইজেশন) করছে অংকুর ফাউন্ডেশন। তারা জনপ্রিয় মুক্ত লেখালেখির সফটওয়্যার ওপেন অফিস ডট অর্গের (www.openoffice.org/download/other.html) জন্য তৈরি করেছে বাংলা স্পেল চেকার। এটি ওপেন অফিস বাংলা সংস্করণে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের রয়েছে ইউনিকোড ফন্ট নিকস ও কনভার্টার।

রয়েছে গুগল কি-বোর্ড
বিশ্বসেরা সার্চ ইঞ্জিন গুগলেও রয়েছে বাংলা কি-বোর্ড লে-আউট। www.google.com.bd ঠিকানায় সার্চ বক্সের ডান পাশে থাকা কি-বোর্ডটি মাউসের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে এবং লেখা যাবে বাংলায়।

প্রয়োজন এগিয়ে আসার
মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টুর বাংলা সংস্করণ রয়েছে, তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো বাংলায় ব্যবহারের জন্য স্থানীয়করণ করার কাজও হচ্ছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলাতেই আমরা কম্পিউটারের সব কাজ করতে পারব—এ প্রত্যাশা সবার।

Read more »

বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১২

ফেসবুকে বসছে ক্যাসিনো

বাঘা নিউজ ডটকম, জুনায়েদ আহমেদ, বিভাগীয় সম্পাদক (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) :: সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জায়ান্ট ফেসবুকে ভার্চুয়াল বন্ধুদের সঙ্গে জুয়া খেলার ব্যবস্থা পাকা করছে কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকে সত্যিকারের ক্যাসিনো চালানোর অনুমতি দেবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকে ক্যাসিনো চালু করতে ২০ জন বিশেষজ্ঞ, অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠান এবং ক্যাসিনোর সঙ্গে কথা হয়েছে কর্তৃপক্ষের। -সিনেট অবলম্বনে

Read more »

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১২

বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন

বাঘা নিউজ ডটকম :: টমাস আলভা এডিসন ছিলেন মার্কিন উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামোফোন, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।[১]
এডিশন ইতিহাসের অতিপ্রজ বিজ্ঞানীদের অন্যতম একজন বলে বিবেচিত, যার নিজের নামে ১,০৯৩টি মার্কিন পেটেন্টসহ যুক্তরাজ্যে, ফ্রান্স এবং জার্মানির পেটেন্ট রয়েছে। গণযোগাযোগ খাতে বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে তার বহু উদ্ভাবনের মাধ্যমে তার অবদানের জন্য তিনি সর্বস্বীকৃত। যার মধ্যে একটি স্টক টিকার, ভোট ধারনকারী যন্ত্র, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারী, বৈদ্যুতিক শক্তি, ধারনযোগ্য সংগীত এবং ছবি। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনকারী তাঁর কাজগুলো তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে একজন টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলে। বাসস্থান, ব্যবসায়-বানিজ্য বা কারখানায় বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনবন্টনের ধারনা এবং প্রয়োগ দুটিই এডিসনের হাত ধরে শুরু হয় যা আধুনিক শিল্পায়নের একটি যুগান্তকারী উন্নতি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপে তাঁর প্রথম বিদ্যুত কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়।

Read more »

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০১২

আর্কিমিডিস বলেছিলেন সোনার মুকুটটাতে খাদ আছে । আমরা আজও সেই কথা বিশ্বাস করি । আমি বলছি উত্তরটা ভুল নয় কি ?

বাঘা নিউজ ডটকম, একই ওজনের দুটি জিনিস হাতের কাছে রাখলাম । একটি পাত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ জলও রাখলাম । এবার একটি জিনিস ঐ জলের মধ্যে রাখলাম । দেখা গেলো কিছুটা জল উপচে পাত্রের বাইরে পড়লো। উপচে পড়া জলের ওজন করলাম । এরপর পাত্রটিতে আবার নির্দিষ্ট পরিমাণ জল রাখলাম । তারপর একই ওজনের দ্বিতীয় জিনিসটি ঐ জল ভরা পাত্রে রাখলাম । কিছুটা জল উপচে পাত্রের বাইরে পড়লো । এই উপচে পড়া জলটার ওজন করলাম । দেখা গেলো উভয়ক্ষেত্রে উপচে পড়া জলের ওজন সমান।
দুটি জিনিসের ওজন একই হলে,জিনিস দুটি কি সম পরিমাণ জল অপসারণ করবে ?
বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসকে রাজা প্রশ্ন করেছিলেন -সোনার মুকুটটাতে কোন খাদ আছে কিনা । আর্কিমিডিস মুকুটের ওজনের সোনা নিয়ে এলেন । তারপর একটি পাত্রের নির্দিষ্ট পরিমাণ জলে একবার মুকুটটাকে ডোবালেন ।আবার ঐ পাত্রের নির্দিষ্ট পরিমাণ জলে মুকুটের ওজনের সোনা ডোবালেন । দুটি ক্ষেত্রে উপচে পড়া জলের ওজন নিয়ে দেখা গেলো , প্রথম ক্ষেত্রে উপচে পড়া জলের ওজন ,আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে উপচে পড়া জলের ওজনের মধ্যে তফাৎ আছে । আর্কিমিডিস বললেন মুকুটটার মধ্যে খাদ আছে তাই মুকুটটি জলে ডোবানো হলে কম পরিমাণ জল পাত্রের বাইরে উপচে পড়লো । অথচ মুকুটের সমান ওজনের সোনা ঐ একই পরিমাণ জলের মধ্যে ডুবিয়ে দেখা গেলো এখানে বেশী পরিমাণ জল উপচে পড়লো ।
আর্কিমিডিসের নাম আমরা সবাই জানি । আর্কিমিডিস যে বললেন মুকুটটাতে খাদ আছে , এটা কি ঠিক ?
আমার মনে হলো উত্তর ভুল। সমান ওজনবিশিষ্ট দুটি জিনিস পর পর
কোন পাত্রের নির্দিষ্ট পরিমাণ জলে ডোবালে সম পরিমাণ জল উপচে পড়বে না কেন?
কিন্তু আকৃতির কথা বললে ভাবতে হবে । কি ভাববো ? লোহার জাহাজ জলে ভাসবে, কিন্তু জাহাজের ওজনের সম পরিমাণ লোহার বল জলে ডুবে যাবে ।
কিন্তু দুটোকেই জলে ডোবালে কি সম পরিমাণ জল অপসারণ করবে না ?

আর্কিমিডিসের সূত্রঃ- কোন বস্তুকে তরল পদার্থে নিমজ্জিত করলে বস্তুটি কিছুটা ওজন হারায় । এই ওজনের পরিমাণ অপসারিত তরল পদার্থের ওজনের সমান ।
যখন বস্তুর ওজন অপসারিত তরল পদার্থের ওজনের চেয়ে কম, তখন বস্তুটি ভাসে। আর যখন বস্তুর ওজন অপসারিত তরল পদার্থের ওজনের চেয়ে বেশী,তখন বস্তুটি ডুবে যায় ।
আমরা জেনেছি বাতাসে বস্তুর যা ওজন, জলের মধ্যে সেই বস্তুর ওজন কমে যাবে।
বাতাসে একই ওজনের সোনা , তামা , পিতল নেওয়া হলো । এই তিনটি জিনিসকে জলে ডোবালে তিনটি ধাতুর ওজন কি তিন রকম হবে ?

Read more »

বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১১

স্যার আইজ্যাক নিউটন এর সম্পর্কে জানুন

বাঘা নিউজ ডটকম, স্যার আইজ্যাক নিউটন (ইংরেজি: Sir Isaac Newton, জানুয়ারি ৪, ১৬৪৩ – মার্চ ৩১, ১৭২৭) প্রখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং আলকেমিস্ট। ১৬৮৭ সনে তার বিশ্ব নন্দিত গ্রন্থ ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশিত হয় যাতে তিনি সর্বজনীন মহাকর্ষ এবং গতির তিনটি সূত্র বিধৃত করেছিলেন। এই সূত্র ও মৌল নীতিগুলোই চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, আর তার গবেষণার ফলে উদ্ভূত এই চিরায়ত বলবিজ্ঞান পরবর্তী তিন শতক জুড়ে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার জগতে একক আধিপত্য করেছে। তিনিই প্রথম দেখিয়েছিলেন, পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের সকল বস্তু একই প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কেপলারের গ্রহীয় গতির সূত্রের সাথে নিজের মহাকর্ষ তত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হয়েছিলেন। তার গবেষণার ফলেই সৌরকেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণার পেছনে সামান্যতম সন্দেহও দূরীভূত হয় বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
বলবিজ্ঞানের ভিত্তিভূমি রচনা করেছেন নিউটন। রৈখিক এবং কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রের মাধ্যমে তিনি এই ভিত্তি রচনা করেন। আলোকবিজ্ঞানের কথায় আসলে তার হাতে তৈরী প্রতিফলন দূরবীক্ষণ যন্ত্রের কথা এসে যায়। একই সাথে তিনি আলোর বর্ণের উপরএকটি তত্ত্ব দাড় করান যা একটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন। পর্যবেক্ষণটি ছিল ত্রিভুজাকার প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাওয়া আলোর বিক্ষেপনের উপর যার মাধ্যমে দৃশ্যমান বর্ণালীর সৃষ্টি হয়েছিল। শব্দের দ্রুতি এবং শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বিষয়েও তিনি গবেষণা পরিচালনা করেন যা থেকে নিউটনের শীতলীকরণ সূত্র এসেছে।
গণিতের জগতেও নিউটনের জুড়ি মেলা ভার। নিউটন এবং লাইবনিজ যৌথভাবে ক্যালকুলাস নামে গণিতের একটি নতুন শাখার পত্তন ঘটান। এই নতুন শাখাটিই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে বিপ্লব সাধনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া নিউটন সাধারণীকৃত দ্বিপদী উপপাদ্য প্রদর্শন করেন, একটি ফাংশনের শূন্যগুলোর আপাতকরণের জন্য তথাকথিত নিউটনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন এবং পাওয়ার সিরিজের অধ্যয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
২০০৫ সনে রয়েল সোসাইটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে কার প্রভাব সবচেয়ে বেশী এ প্রশ্ন নিয়ে একটি ভোটাভুটির আয়োজন করে। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, এক্ষেত্রে নিউটন আইনস্টাইনের চেয়েও অধিক প্রভাবশালী।
প্রাথমিক জীবন
আধুনিক বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা জানুয়ারিতে আইজাক নিটটন জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান লিংকনশায়ারের উল্‌সথর্প ম্যানরে। ম্যানর অঞ্চলটি উল্‌সথর্প-বাই-কোল্‌স্টারওয়ার্থের মধ্যে অবস্থিত। নিউটনের যখন জন্ম হয় তখনও ইংল্যান্ডে সমসাময়িককালের আধুনিকতম প্যাপাল বর্ষপঞ্জির ব্যবহার শুরু হয়নি। তাই তার জন্মের তারিখ নিবন্ধন করা হয়েছিল ১৬৪২ সনের ক্রিস্‌মাস দিবস হিসেবে। তিনি তার পিতা আইজাকের মৃত্যুর তিন মাস পর জন্ম নেন। তার বাবা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। জন্মের সময় নিউটনের আকার-আকৃতি ছিল খুবই ছোট। তার মা হানাহ্‌ এইসকফ প্রায়ই বলতেন ছোট্টবেলার সেই নিউটনকে অনায়াসে একটি কোয়ার্ট মগের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়া যেতো। তার তিন বছর বয়সে তার মা আরেকটি বিয়ে করেন এবং নতুন স্বামী রেভারেন্ড বার্নাবাউস স্মিথের সাথে বসবাস করতে থাকেন। এসময় নিউটন তার মায়ের সাথে ছিলেন না। নানী মার্গারি এইসকফের তত্ত্বাবধানে তার দিন কাটতে থাকে। নিটটন তার সৎ বাবাকে পছন্দ করতে পারেননি। তার মা এই লোককে বিয়ে করেছে বলে মায়ের প্রতি তার কিছুটা ক্ষোভও ছিল। নিটটন তার ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত করা পাপ কাজগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছিলেন। সেই তালিকা থেকে মায়ের প্রতি তার এই ক্ষোভের প্রমাণ পাওয়া যায়। তালিকায় লিখা ছিল:: "আমার বাবা ও মা-কে এই বলে ভয় দেখানো যে আমি তাদের থাকবার ঘর জ্বালিয়ে দেবো"।
নিউটনের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় বাড়ির পাশের এক ক্ষুদ্রায়তন স্কুলে। ১২ বছর বয়সে তাকে গ্রান্থামের ব্যকরণ স্কুলে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে তিনি এক ঔষধ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতার বাড়িতে থাকতেন। এই স্কুলে নিউটন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বি যা থেকে তার মেধার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথমদিকে তার সাথে কেউ না পরলেও এক সময় আরেকটি ছেলে তার সাথে ভালো প্রতিযোগিতা করতে সমর্থ হয়েছিল। স্কুল জীবনের প্রথম থেকেই নিউটনের সবচেয়ে বেশী ঝোঁক ছিল বিভিন্ন ধরণের যান্ত্র তৈরীর প্রতি। সেই বয়সেই তিনি উইন্ডমিল, জল-ঘড়ি, ঘুড়ি এবং সান-ডায়াল তৈরী করেছিলেন। এছাড়া তার গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ ছিল একটি চার চাকার বাহন যা আরোহী নিজেই টেনে চালাতে পারতেন। ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে নিউটনের সৎ বাবা মারা যান। এরপর তার মা উল্‌সথর্পে ফিরে এসে তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। উদ্দেশ্য ছিল বাড়িতে ক্ষেত-খামারের কাজ শিখিয়ে ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত করে দেয়া। কিন্তু সত্বরই তিনি বুঝতে পারেন যে, খামারের কাজের দিকে নিউটনর কোন ঝোঁক নেই। নিউটনের চাচা ছিলেন বার্টন কগলিসের রেক্টর। এই চাচার উপদেশ শুনেই পরিবার থেকে তাকে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়।
ট্রিনিটি কলেজে নিউটন
নিউটন ট্রিনিটি কলেজ থেকে ১৬৬১ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি তার পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য কলেজের বিভিন্ন স্থানে ভৃত্যের কাজ করতেন। ছাত্র হিসেবে বড় কোন কিছু তিনি করেছেন বলে ট্রিনিটি কলেজের কোন দলিলপত্র লেখা নেই। তবে জানা যায় তিনি মূলত গণিত ও বলবিজ্ঞান বিষয়ে অধিক পড়াশোনা করেছিলেন। ট্রিনিটি কলেজে প্রথমে তিনি কেপলারের আলোকবিজ্ঞান বিষয়ক সূত্রের উপর অধ্যয়ন করেন। এরপর অবশ্য তিনি ইউক্লিডের জ্যামিতির প্রতি মনোনিবেশ করেন। কারণ মেলা থেকে কেনা জ্যোতিষ শাস্ত্রের একটি বইয়ে উল্লেখিত বেশ কিছু রেখাচিত্র তিনি বুঝতে পারছিলেন না। এগুলো বোঝার জন্য ইউক্লিডের জ্যামিতি জানা থাকাটা আবশ্যিক ছিল। তা সত্ত্বেও নিউটন বইটির কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এটি অকিঞ্চিৎকর বই হিসেবে সরিয়ে রাখেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার শিক্ষক আইজাক বারো তাকে বইটি আবার পড়তে বলেন। বইটি লেখা হয়েছিল দেকার্তের জ্যামিতিক গবেষণা ও কর্মের উপর।
স্নাতক শিক্ষা গ্রহণকালে নিউটন একটি ছোট বইয়ের তাক বা এ ধরণের কোন স্থানে তার সব বই সাজিয়ে রাখতেন। সেই তাক থেকে নিউটনের সে সময়ে লেখা বেশ কিছু নিবন্ধ পাওয়া গেছে। এই লেখাগুলোর বিষয়ের মধ্যে রয়েছে: কৌণিক বিভাজন, বক্রসমূহের বর্গকরণ, সংগীতের অনন্য সুর সম্বন্ধে কিছু গাণিতিক হিসাব, ভিয়েটা এবং ভ্যান স্কুটেনের জ্যামিতিক সমস্যা, ওয়ালিস রচিত এরিথমেটিক অফ ইনফিনিটিস বইয়ের উপর কিছু মন্তব্য, গোলীয় আলোক গ্লাসের ঘর্ষণের ফলাফল, লেন্সের ত্রুটি এবং সকল ধরণের মূল বের করার সূত্র। ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে স্নাতক ডিগ্রী লাভের প্রাক্কালেই নিউটন তার বিখ্যাত দ্বিপদী উপপাদ্য বিষয়ক সূত্র প্রমাণ করেন এবং একইসাথে ফ্লাক্‌সিয়নের পদ্ধতি (mathod of fluxion) আবিষ্কার বিষয়ক প্রথম তত্ত্ব প্রদান করেন। ট্রনিটি কলেজের এই দিনগুলো তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ১৬৬৫ সনে কেমব্রিজ এবং লন্ডনে প্লেগ রোগ মহামারী আকার ধারণ করে। এর ফলে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নিউটন লিংকনশায়ারে তাদের খামর বাড়িতে ফিরে যান।
লিংকনশায়ারে গবেষণা কাজ
উল্‌সথর্প ফিরে এসেও নিউটন থেমে থাকেননি। সেখানে মূলত রসায়ন এবং আলোকবিজ্ঞান বিষয়ের উপর বিভিন্ন পরীক্ষণ চালিয়ে যেতে থাকেন এবং একইসাথে চলতে থাকে তার গাণিতিক অনূধ্যানের প্রকল্পসমূহ। নিউটন তার মহাকর্ষ তত্ত্ব আবিষ্কার বিষয়ক দিনপঞ্জির সূচনা চিহ্নিত করেছিলেন এই ১৬৬৬ সনকেই, যে সনে তাকে ট্রিনিটি কলেজ ছেড়ে যেতে হয়েছিল। এ সম্বন্ধে তিনি বলেছেন:
"একই সালে আমি চাঁদের কক্ষপথে বিস্তৃত অভিকর্ষ নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করি,... চাঁদকে তার নিজ কক্ষপথে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় বল এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠতলে বিরাজমান অভিকর্ষ বলের মধ্যে তুলনা করি এবং এই দুটি বলের মান প্রায় সমান বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হই।"
একই সময়ে তিনি আলোকবিজ্ঞান বিষয়ে তার একটি মৌলিক পরীক্ষণের কাজ সম্পন্ন করেন। এই পরীক্ষণের মাধ্যমে তিনি সাদা আলোর গাঠনিক অংশসমূহ আবিষ্কারে সক্ষম হন। আলোকবিজ্ঞান বিষয়ে তার প্রাথমিক এই কাজ সম্বন্ধে নিউটন নিজেই মন্তব্য করেছেন:
"এই সব কিছু আমি করেছিলাম মাত্র দুই বছর তথা ১৬৬৫ এবং ১৬৬৬ সনের মধ্যে, কারণ আমর জীবনের যেকোন সময়ের তুলনায় ওই সময়ে আমি বিশেষ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে ছিলাম যে পর্যায়ে উদ্ভাবন এবং মনকেন্দ্রিক গণিত ও দর্শন চিন্তার বিকাশ ঘটেছিল।"
আলোক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা
১৬৬৭ সনে ট্রিনিটি কলেজ পুনরায় খোলা হয়। এবার কলেজ নিউটনকে ফেলো নির্বাচিত করে এবং এর দুই বছর পর অর্থাৎ তার ২৭তম জন্মদিনের কিছুদিন আগে তিনি সেখানকার গণিত বিভাগের লুকাসিয়ান অধ্যাপক নিযুক্ত হন। তার আগে ট্রিনিটি কলেজের এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তারই বন্ধু ও শিক্ষক ডঃ বারো। তখনকার সময়ে কেমব্রিজ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো হতে হলে কাউকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত অ্যাংগ্লিকান ধর্মপ্রচারক হতে হতো। আবার লুকাসিয়ান অধ্যাপকদের চার্চের সাথে যোগাযোগ থাকা নিষিদ্ধ ছিল, কারণ তা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষতি করতে পারে। নিউটন লুকাসিয়ান অধ্যাপক হওয়ার সময় এই শর্ত থেকে নিজে অব্যাহতি চান। তখনকার রাজা চার্লস ২ তার দাবী মেনে নিয়ে তাকে অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত করেন। এতে অ্যাংগ্লিকানদের সাথে নিউটনের ধর্মীয় চিন্তাধারার বিরোধের অবসান ঘটে। এরই মধ্যে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে নিউটন একটি প্রতিফলন দূরবীক্ষণ যন্ত্র তৈরী করে ফেলেছিলেন। ১৬৭১ সনের ডিসেম্বরে নিউটন দ্বিতীয় আরেকটি দূরবীন তৈরী করে রয়েল সোসাইটিকে উপহার দেন। এর দুই মাস পর রয়েল সোসাইটির একজন ফেলো হিসেবে তিনি আলো সম্বন্ধে তার আবিষ্কারসমূহ প্রচার করেন এবং এর মাধ্যমে আলো সম্বন্ধে একটি বিতর্কের সূচনা করেন। অনেক বছর ধরে এই বিতর্ক অব্যাহত ছিল। এই বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন রবার্ট হুক, লুকাস, লিনাস পাউলিং এবং আরো অনেকে। নিউটন অবশ্য এ ধরণের বিতর্ককে সবসময়ই বিস্বাদ জ্ঞান করতেন। আলো সম্বন্ধে এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি তত্ত্বের পক্ষে অবস্থাননিয়ে একটি বিতর্কের জন্ম দেয়ার জন্য তিনি নিজের প্রজ্হাকেই দোষারোপ করতেন। আলোক বিজ্র্ঞান সম্বন্ধে তার গবেষণাপত্রসমূহের অধিকাংশই ১৬৭২ সন থেকে ১৬৮৪ সনের মধ্যে রয়েল সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হয়। তার এই গবেষণাপত্রগুলোই ১৭০৪ সনে তার অপটিক্‌স নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছিল।
প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশ
১৬৮৪ সনের পূর্বে নিউটন মহাকর্ষ সম্বন্ধে তার গবেষণাকর্মগুলো প্রকাশের তেমন কোন তাগিদ অনুভব করেন নি। এর মধ্যে হুক, এডমুন্ড হ্যালি এবং স্যার ক্রিস্টোফার রেন মহাকর্ষ সম্বন্ধে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তত্ত্ব বা তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন যদিও তারা কেউই গ্রহের কক্ষপথ সম্বন্ধে কোন সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব প্রদানে সক্ষম হন নি। ঐ বছর বিজ্ঞানী এডমুন্ড হ্যালি এ বিষয়টি সম্বন্ধে নিউটনের সাথে কথা বলেন এবং এই দেখে অবাক হন যে নিউটন বিষয়টি এতোদিনে সমাধান করে ফেলেছেন। নিউটন হ্যালির কাছে চারটি উপপাদ্য এবং সাতটি সমস্যা প্রস্তাব করেন যেগুলো তার গবেষণা কাজের মূল অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। ১৬৮৫ এবং ১৬৮৬ সালের মধ্যে প্রায় সতের-আঠার মাস জুড়ে তার লেখা সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ তথা ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা রচনা করেন যার ইংরেজি নাম দেয়া হয় Mathematical Principles of Natural Philosophy। এই গ্রন্থের তিনটি অংশ আছে। নিউটন তৃতীয় অংশটিকে সংক্ষিপ্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হ্যালি তাকে তৃতীয় অংশটি বিস্তারিত লেখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। রয়েল সোসাইটি গ্রন্থটি প্রকাশের অর্থ সংকুলানে অপারগতা প্রকাশ করে। এবারও হেলিই এগিয়ে আসেন। তিনি বইটি প্রকাশের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন এবং এর ফলে ১৬৭৮ সনে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এই বইটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর সমগ্র ইউরোপ জুড়ে এটি বিপুল সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তখনকার সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হিসেবে খ্যাত ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন্‌স ১৬৮৯ সনে নিউটনের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার জন্য ইংল্যান্ডে যান।
সরকারী চাকরি ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণা
প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থে উল্লেখিত মূলনীতিসমূহ নিয়ে কাজ করার সময়ই নিউটন বিশ্ববিদ্যালয় কার্যাবলীতে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেন। এ সময় রাজা জেম্‌স ২ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বময় কর্তৃত্ব এবং আনুগত্যের শপথ অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নিউটন তার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও বিলোধিতা করায় কেমব্রিজ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনীতির কাজ শেষে যখন তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন তখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অসুস্থতার কারণে ১৬৯২ - ১৬৯৩ সনে তিনি প্রায় সকল কর্মে অক্ষম ছিলেন। এর ফলে তার সহকর্মী ও বন্ধু-বান্ধবের মাঝে প্রভূত উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। রোগ থেকে আরোগ্য লাভের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করে সরকারের জন্য কাজ শুরু করেন। তার বন্ধু লক, রেন এবং লর্ড হালিফাক্সের সহযোগিতায় তিনি প্রথমে ১৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে ইংলেন্ড সরকারের ওয়ার্ডেন অফ দ্য মিন্ট এবং পরবর্তীতে মাস্টার অফ দ্য মিন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই মাস্টার অফ দ্য মিন্ট পদেই বহাল ছিলেন।
অপর দিকে জীবনের প্রথম ভাগ থেকেই নিউটন ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করে আগ্রহ পেতেন। ১৬৯০ সনের আগে থেকেই তিনি ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সে সময় তিনি লকের কাছে লেখা পত্রে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। এই পত্রটির নাম ছিল An Historical Account of Two Notable Corruptions of The Scriptures। এই পত্রটি ট্রিনিটির দুইটি প্যাসেজ বিষয়ে লেখা। এছাড়াও তিনি মৃত্যুর পূর্ব একটি পাণ্ডুলিপি লিখে যান। এর নাম Observations on the Prophecies of Daniel and the Apocalypse। এছাড়াও বাইবেলের কিছু সমালোচনা, ভাষ্য ও টীকা তিনি রচনা করেছিলেন।
শেষ জীবন
জীবনের শেষ ৩০ বছর নিউটন গাণিতিক মূলনীতিসমূহের উপর খুব কমই মৌলিক অবদান রাখতে পেরেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তার উৎসাহ এবং দক্ষতার কোন অভাব তখনও ছিল না। ১৬৯৬ সালে তিনি এক রাতে একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে ফেলেন। এই সমস্যাটি বার্নোলি একটি প্রতিযোগিতায় প্রস্তাব করেছিলেন এবং এর সমাধানের সময় বরাদ্দ ছিল ৬ মাস। আবার ১৭১৬ সনে তিনি মাত্র কয়েক ঘন্টায় একটি সমস্যার সমাধান করে ফেলেন। বিজ্ঞানী লিবনিজ এই সমস্যাটিকে ইংরেজ বিশেষজ্ঞদের জন্য রোমহর্ষক এবং দুঃসাধ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ সময় দুইটি বিষয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। একটি হল তার কিছু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানী রয়েলের পর্যবেক্ষণের সাথে খাপ খায়নি। এ নিয়ে একটি বিতর্ক ছিল। অন্যটি হল ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়ে লিবনিজের সাথে বিতর্ক ও বিরোধ। তিনি প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থটিকে পুনরায় সংশোধন করে ১৭১৩ খ্রিস্টাব্দে এর নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন।

Read more »

Ruby