সাহিত্য পাতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাহিত্য পাতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১২

আজ মঙ্গলবার কথা সাহিত্যিক শফীউদ্দিন সরদারের ৭৮তম জন্মদিন

আকতার হোসেন অপূর্ব, নাটোর প্রতিনিধি :: আজ ১ মে মঙ্গলবার বরণ্য কথা সাহিত্যিক শফীউদ্দিন সরদারের ৭৮তম জন্মদিন। ১৯৩৫ সালের এই দিনে তিনি নাটোর সদরের হাটবিলা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৫০ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করার পর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আই এ, বিএ অনার্স ও এম ডিগ্রী লাভ করেন। লন্ডন থেকে ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন ডিগ্রী লাভ করেন। গ্রামের স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করে তিনি একে একে রাজশাহী সরকারী কলেজ, সরদহ ক্যাডেট কলেজে অধ্যাপনা, বানেশ্বর কলেজ ও নাটোর রাণী ভবাণী সরকারী মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার রচিত প্রথম সামাজিক উপন্যাস চলন বিলের পদাবলি দেশের কোন প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ না করায় তিনি আজীবন ঐতিহাসিক ও সামাজিক উপন্যাস রচনার সিন্ধান্ত নেয়। সেই থেকে তিনি একে একে রচনা করেন রুপনগরের বন্দী, বখতিয়ারের তালোয়ার, গৈাড় থেকে সোনারগাঁ, যায় বেলা অবেলায়, বিদ্রোহী জাতক, বার পাইকার দূর্গ, রাজ বিহঙ্গ, শেষ প্রহরী, বারো ভূঁইয়া উপাখ্যান, প্রেম ও পূর্ণিমা, বিপন্ন প্রহর, সূর্যাস্ত, পথহারা পাখি, বৈরী বসতী, অন্তরে প্রান্তরে, দাবানল, ঠিকানা, ঝড়মুখো ঘর, অবৈধ অরণ্য, দখল, রোহিণী নদীর তীরে ও ঈমানদার এর মতো জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উপন্যাস। এ ছাড়াও অপূর্ব অপেরা, শীত বসন্তের গীত, পাষানী, দুপুরের পর, রাজ্য ও রাজকণ্যারা, থার্ড পন্ডিত, মুসাফির, ও গুনাগার নামে বেশ কয়েকটি সামাজিক উপন্যাস বরই উপভোগ্য। তার রচিত ভ্রমন কাহিনীর মধ্যে ”সুদূর মক্কা মদীনার পথে’ উল্লেখ যোগ্য। কল্প কাহিনী সুলতানার দেহরক্ষী, রম্য রচনা রাম ছাগলের আব্বাজান, চার চাঁন্দের কেচ্ছা ও অমরত্বের সন্ধানে উল্লেখ যোগ্য। শিশু সাহিত্য ভূতের মেয়ে লীলাবতী, পরীরাজ্যের রাজকন্যা ও রাজার মেয়ে কবিরাজ উল্লেখ যোগ্য। আর কিছুদিন বেঁচে থাকলে তিনি আরো কিছু গুরুত্বপূর্ন লেখা লেখে যেতে চান। কবি আল মাহ্মুদের ভাষায় ‘শফীউদ্দিন সরদার বাংলাদেশের সমকালীন সাহিত্যে এক চিত্রি অভিজ্ঞতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। যিনি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বীরত্বগাঁথার মহান উপস্থাপক। তিনি আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত কথা শিল্পী। আমি উপন্যাসিক শিল্পীর একজন ভক্ত’। কবি আল মাহ্মুদের পছন্দের কথাশিল্পী আজও রাষ্ট্রিভাবে তার কর্মের কোন স্বীকৃতি পান নাই। যদিও তিনি স্বীকৃতির জন্য লালায়িতও নন।

Read more »

মানুষের কবি ফকির লালন শাহ

undefined মানবতাকে অপমান করে এরূপ কোন ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় কিংবা সামাজিক বিধিবিধানের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। নিজস্ব মতবাদের পক্ষে তিনি ছিলেন আপসহীন। সামাজিক আচার-প্রথা, ধর্মীয় নিয়মনীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া মানবতাকে মুক্ত করাই ছিল ইউরোপীয় রেনেসাঁর মূল লক্ষ্য। ফলে ধর্মনিরপেক্ষতার উত্থান ঘটে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ উঠে যায়। সৃষ্টি হয় মনুষ্যত্বের প্রতি অপরিসীম মর্যাদা ও শ্রদ্ধাবোধ। মানুষের স্থান হয় সবার উপরে। এই রেনেসাঁর সব লক্ষণই ছিল লালনের দর্শনে। এ দর্শনের মূলে হলো মানবতা। মানুষ অখ-, মানবতা অভিন্ন। সেই মানুষ ভজনের কথা জোরালো কণ্ঠে বলেছেন লালন। তিনি মানবিক মূল্যবোধকে ঊর্ধে তুলে ধরেছিলেন। তাই তিনি অতিসহজেই বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারতেন। তাকে নিয়ে লিখছেন- মজির হোসেন চৌধুরী

কবিগুরু রবীন্দ্র নাথের মতে বাংলার শিক্ষিত সমাজ যে সংস্কৃতির চর্চা করে তা বৈঠকঘর কেন্দ্রিক সংস্কৃতি। এরই পাশে ড. আহমদ শরীফের মতে, বাউল মত বাঙলার ধর্ম। বাঙালির ধর্ম একান্তভাবে বাঙালির মানস ফসল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, আমার মনে আছে, তখন আমার নবীন বয়স, শিলাইদহ অঞ্চলের এক বাউল কলকাতায় একতারা বাজিয়ে গেয়েছিল, আমি কোথায় পাব তারে/ আমার মনের মানুষ যে রে? হারায়ে সেই মানুষে,/ তাঁর উদ্দেশ্যে/ দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে। রবীন্দ্রনাথের লেখা গোরার বিনয়ভূষণ দোতালার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন, রাস্তায় গান গেয়ে যাওয়া এক বাউলকে। সেই বাউলকে ঘরে ডেকে আনতে তিনি আগ্রহ বোধ করছিলেন। বাংলার সেই বাউলদেরই অন্যতম ফকির লালন শাহ।
তীর্থযাত্রার দল থেকে পরিত্যক্ত লালন সবার মাঝে থেকেও ছিলেন উদাসীন। নদীতে ভেসে একদিন লালনের ভেলা ছেঁউড়িয়া গ্রামে ভিড়েছিল। বসন্ত রোগে আক্রান্ত লালনের অবির্ভাব কালিগঙ্গা নদীর ঘাটে। মওলানা মলম শাহ্ ও তাঁর স্ত্রীর ক্রোড়ে সন্তানতুল্য আহ্লাল লাভ করেন। নিঃসন্তান মলম শাহ্ লালনকে পাঁচ একর জমি দান করেন। এবং সেখানে লালনের বসবাস। সেই লালন আজও জ্ঞানপিপাসু মানুষের কাছে এক রহস্য ঘেরা জ্ঞানের ভান্ডার।
লালন ১৭ অক্টোবর ১৮৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৬ বছর। সেই আলোকে গবেষকদের ধারণা লালন শাহ্ জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৭৭৪ সালে। হিন্দু ধর্মের লোকের দাবি- লালন ছিলেন হিন্দু, মুসলমানেরা বলেন, লালন ছিলেন মুসলমান। গবেষকদের মতে, লালনের পরিচয় ভিন্নরূপ। যেমন, মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী তাঁর লেখা বাউল সংগীত ও বাউল কবি লালন সাঁই প্রবন্ধে লালন ফকিরের হিন্দু ও মুসলমান দুটো পৃথক বংশ পরিচয় দেখিয়েছেন। দুটোর মধ্যে কোনটি ঠিক? অর্থাৎ চরম রহস্যেঘেরা লালনের জন্মপরিচয়। রহস্যের মাঝে ডুব দিয়ে লালন নিজে বলেছেন, সব লোকে কয়, লালন ফকির হিন্দু না যবন/ লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান।
লালনের গোঁড়া ভক্তরা তাঁর জন্মকে অস্বীকার করেছেন। তারা লালনকে অবতার রূপে দাবি করেন। তাদের মতে, বাংলার উপেক্ষিত জনগোষ্ঠিকে উদ্ধারের জন্য লালনের আবির্ভাব ঘটেছে। তা না হলে লালন সাঁইয়ের জন্মরহস্য অজানা থাকত না। তিনি অতি সতর্কতার সঙ্গে নিজের পরিচয় গোপন করে গেছেন।খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়
তারে ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতাম পাখির পায়।
একজন স্বল্পশিক্ষিত লোকের অন্তরে এ দশর্নচিন্তা তথা অচিন পাখি ঢুকলো কোন পথে? মানব ধর্মের দীক্ষা তিনি পেলেন কার কাছে? আসলে চৈতন্য, সুফী ও বাউলদের সহজীয়া ভঙ্গিতে তাঁর কণ্ঠে এসে যায় বাংলার চিরায়ত সুর। বাংলার নদী, মাঠ-ঘাট, বনানী, আকাশ, ঋতু পরিবর্তন, প্রকৃতি-পরিবেশ এ সবের মধ্য থেকে উত্থান ঘটেছে লালনের। জনসংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, জলবায়ুর পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে ছেঁউড়িয়াকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বাউলের দেশ বাংলায় লালনের ছেঁউড়িয়া, বিল হাওর, নদী এবং মনের মানুষকে খুঁজে বেড়ায় অনেকে। কিন্তু মনের মানুষের সন্ধান পাওয়া সহজ নয়। খুঁজতে গিয়ে জীবন কালটা ঘোরের মধ্যে কাটতে পারে। ধোঁয়াশায় চাঁদের আলোতে ভেসে বেড়াতে হয়। পথে পড়ে সুন্দর স্বর্গোদ্যান; নানা রঙের ফুল কুড়িয়ে নিয়ে মালা গাঁথা যায়। অপরূপ মায়ার চাদর বিছিয়ে দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। সেই চাদরে বসেই লালন করেছেন সাধনা। পরবর্তী কালে তাঁর শিষ্যরা বাংলার পথে ঘাটে ছড়িয়ে দিয়েছে লালন কথিত মানবতার বাণী। ফলে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান ঘটেছিল, তার বীভৎস চেহারাটি পাঞ্জাবের ন্যায় বাংলায় প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ কৃতিত্ব পাওয়ার দাবিদারদের মধ্যে লালন শাহ্ অন্যতম একজন।
লালনের একটি দর্শন খুব কাছে টানে মানুষকে। তিনি বলেছেন, আমাদের জীবননৌকার দাঁড়টা কখনও কখনও কাউকে না কাউকে বাইতে হয়। তিনি বলেন, স্বধর্ম পালন কর কিন্তু তার জন্য অন্যকে আঘাত দিয়ে কর না। এটা সমকালীন সমাজে অনেকের ভাল লাগেনি। বর্তমানে এ দর্শন আবারো প্রয়োজন। এখন তো সারাক্ষণ মানুষে মানুষে বিভেদ লেগেই আছে। মানুষের সহিঞ্চুতা কমে গেছে। সহিষ্ণুতাই ছিল লালনের জীবনের ধর্ম। সে ধর্ম-পরিবেশ সৃষ্টি করতে গিয়ে লালন দেখেছেন কানার হাটবাজার। সাঁইজির দৃষ্টিতে সবাই কানা। কানা তার চরণতলে আলো দেখতে চায়। এই আলোর সন্ধান করেছেন হাজারো বাউল ভক্তরা। বাউল শিষ্যরা নিজেকে জানার বা চেনার চেষ্টা করেছেন।
মানব ধমের্র প্রচারক লালন শাহের মাজারে গেলে অহিংস লালনের ভক্তদের সীমাহীন বিশালতায় মন ভরে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে আসা বাউলদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয় চৈত্রের দোলপূর্ণিমা উৎসব। তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে/ তোরা কেউ যাসনে ওই পাগলের কাছে। সেই পাগলের দরবারে প্রতি বছর দোলে একত্রিত হন গুরুশিষ্যরা। উদ্দেশ্য মানবতার প্রেম ও সাঁইজির দর্শন পাওয়া। গাওয়া হয় লালনের সব মধুর গান। গুরু-শিষ্যরা চৈত্রের পূর্ণিমা রাতে জোৎ�াছটায় গানে গানে হারিয়ে যায় ভিন্ন এক জগতে। উৎসবকে ঘিরে লালন ভক্তদের মাঝে সৃষ্টি হয় পরম উন্মাদনা। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে গান করে ভক্তরা। অনায়াসে দেখতে পাবি/ কোনখানে সাঁই বারাম খানা/ আপন ঘরের খবর নেনা। সাঁইজির এমন অমিয় বাণী বাউল ভক্তদের মনে নাড়া দেয়। গুরু শিষ্যদের মধ্যে প্রকৃত প্রেম জাগায়। খুঁজে পায় আত্নার মিল। সাধুরা মনে করে এভাবে সাধু সঙ্গ করলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সময় গেলে সাধন হবে না বাউলদের মতে এমন তত্ত্ব কথার মূল বিষয় হলো, অমাবশ্যায় পূর্ণিমা হয়, মহাজন সে দিনে উদয়। এর অর্থ এই মহাযোগে মহামানুষের আবির্ভাব হয়। দোলযাত্রার মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় যে, সাধু গুরুর কৃপা ছাড়া মানুষ মুক্তি পেতে পারে না। লালনের মৃত্যুবার্ষিকীতে ছেঁউড়িয়ায় ১৬ অক্টোবর আর একটি স্মরণোৎসব বসে। ( আগামী পর্বে....)

Read more »

বৃহস্পতিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১২

বাংলা নববর্ষ: চাই জাতীয় অঙ্গিকার

নাজমুল হক :: উৎসব মুখর বাঙ্গালীর প্রাণের দিন বাংলা নববর্ষ। এ দিনে সমগ্র বাঙ্গালি উৎসবে আনন্দে মেতে উঠবে। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার গন্ডি ছাড়িয়ে যাবে বিশ্বের সকল বাংলাদেশীদের কাছে কোটি প্রাণের উচ্ছ্বাস। প্রবাসী বাঙ্গালিরাও দিনভর উৎসবে থাকবেন। দেশ বাধভাঙ্গা উৎমবে মেতে উঠবে। প্রতি বছরের ন্যায় বাঙ্গালি উৎসবে আনান্দে কাটাবে দিনটি। আলোচনা সমালোচনা হবে, হবে নতুন পুরানো দিনের হিসাব। মানুষ মিলাতে থাকবে আগামীর প্রত্যাশা। বছর আসে বছর যায়। আনান্দ-উৎসব হলেও ঘোষণা হয় না জাতীয় কোন অঙ্গিকার। যে অঙ্গিকারের শপথ নিয়ে দেশের মানুষ নববর্ষ পালন করবে। উৎসব মুখর বাঙ্গালি জাতি শ্রেণী-পেশা, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলে এক কাতারে দাঁড়াবে। একটি প্লাটফরমে সকলে এক সুরে কথা বলবে। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভূলে দেশের স্বর্থে, জাতির স্বার্থে, উন্নয়নের স্বর্থে, কল্যানের স্বার্থে  সর্বোপরি গণমানুষের স্বর্থে সকলকে বাঙ্গালির এই প্রাণের স্পন্দনের এই দিনে একটি বাক্য পাঠ করতে হবে। এক কাতারে নিয়ে আসতে হবে।

বাংলা নববর্ষ সর্বপ্রথম চালু করেন মুঘল সম্রাট আকবর। তিনি তার রাজ্যের মানুষদের এক কাতারে আনার জন্য বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চালু করেন। সেই থেকে ১লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ চালু হয়। বাংলার মানুষে মধ্যে এক ঘেয়েমি দূর করার জন্য তিনি সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলে। তখন বাংলায় উৎসবের কমতি ছিল না। বাংলার মানুষ নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে উৎসব করত আনান্দ করত। কাধে কাধ মিলিয়ে দেশের শন্তির জন্য, কল্যানের জন্য প্রার্থনা করত। করত নতুন পুরাতনের হিসাব। সা¯প্রদায়িক সা¤প্রতি বজায় রেখে মানবতার জন্য কাজ করার অঙ্গিকার করত।

সম্রাট আকবরের প্রবর্তন করা বাংলা নববর্ষ আজ আমাদের সংস্কৃৃতির প্রধান অংশ। তার দেখানো পথে আমরা চললেও ভালো ভাবে চলতে পারছি না। নববর্ষ নতুনকে বরণ করে নেওয়ার যে দৃড় প্রত্যয় নিয়ে হয়েছিল তার কোন বাস্তবায়ন আজ হচ্ছে না। বর্তমানে আমাদের দেশে নববর্ষ মানে সাদা ফতুয়ার উপর লাল আলপনা পরে ঘুরে বেড়ানো। বন্ধু বান্ধবীদের সাথে সীমাহীন প্রান্তে আড্ডা নেওয়া। তাদের সথে সারাদিন আনান্দ করা। অসীমের উদ্দেশ্যে আজানায় পাড়ি জমানো। আর নতুন নতুন পোষাক পরিধান করা। কোথাও নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন মেলা বসে। পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর পার্কে সমায় কাটানো। আর সকালে পান্তা ইলিশ খাওয়ার পতিযোগিতা করা। যেন বাংলার মানুষ বছরের কখনও এগুলো খায় না। আর এই সবগুলো হয় বিচ্ছিন্ন ভাবে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে র‌্যালী বা শোভাযাত্রা বের হলেও থাকে না নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য। কোন কিছুর মধ্যে কোন পরিকল্পনা থাকে না। অবস্থা যেন পালন করতে হয় তাই পালন করা।

বাংলা নববর্ষ বাঙ্গালি জাতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নববর্ষকে ঘিরে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয়প্রধান, সরকার প্রধান কার্ডের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা বিভিন্ন দপ্তরে পাঠাচ্ছেন। পাঠাচ্ছেন ঘণিষ্টজন, আপনজনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে। কিন্তু যে বিষয়টি আবাক করার মত সেটি হল জাতীয় কোন অঙ্গিকার নেই। ফলে হাজার বছরের মত এই নববর্ষও কালেও গর্ভে হারিয়ে যাবে। জাতীয় অঙ্গিকার না থাকায় সংবাদমাধ্যমগুলো পরদিন শিরোনাম করে বিভিন্ন ভাবে। তারা বিভিন্ন জাতীয় অঙ্গিকারের কথা উল্লেখ করে। ফলে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে দুই ধারার রাজনীতি প্রবাহিত হচ্ছে। সমগ্র মানুষও তাই দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে গেছে। জাতীয় সংস্কৃতির মত কোন অনুষ্ঠান দুই ধারার সকল ব্যক্তিই এক কাতারে আসে। । এ সকল ব্যক্তিরাও সংস্কৃতির সাথে থাকে। তারাও দেশের মানুষের মত জাতীয় অনুষ্ঠান পালন করে। লালন করে সংস্কৃতি। ফলে এই দুই ধারার মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করাতে হবে। তবে আমাদের দেশের জন্য মঙ্গল। আর এ জন্য প্রয়োজন বাংলা নববর্ষে জাতীয় কোন অঙ্গিকার। যে অঙ্গিকারে আবন্ধ হয়ে দেশের মানুষ যার যার অবস্থানে থেকে সুজলা সুফলা বাংলার জন্য কাজ করবে। ##

লেখক : নাজমুল হক, নির্বাহী সদস্য
সমকাল সুহৃদ সমাবেশ, ঢাকা কমিটি
মোবাইল : ০১৭২০-৫৪৮৮৪৭।

Read more »

রবিবার, ১ এপ্রিল, ২০১২

মহাদেবপুরে মর্ডান আইডিয়াল কিন্টার গার্টেনের বার্ষিক ক্রীয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

মোঃ আককাস আলী নওগাঁ প্রতিনিধি :: নওগাঁর মহাদেবপুরে শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ মর্ডান আইডিয়াল কিন্টার গার্টেনের ৩ দিন ব্যাপি বার্ষিক ক্রীয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতা শুক্রবার রাতে শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বিদ্যালয় সংল্গন কলেজ মাঠে পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াছাত হায়দার টগর এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোকসেদুল সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রভাষক হাফিজুল রহমান বকুল, জুয়েল হোসেন, সাংবাদিক মোঃ আককাস আলী, কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, অত্র বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রঞ্জন চক্রবর্তী প্রমূখ। শেষে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিজস্ব পরিবেশনায় নাচের শিক্ষক শাওন চক্রবর্তীর সঞ্চালনে এক মনোগ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়।#

Read more »

সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১২

স্বাধীনতা এক নিবিড় ভালবাসার নাম

মুহম্মদ আলতাফ হোসেন :: বাংলাদেশের ইতিহাসের মহান দিন ২৬ মার্চ। আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। এই দিনে স্বাধীনতা নিয়ে সবচেয়ে সুন্দর, তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী কথা বলবেন রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, কবি, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের মানুষ। সবাই মিলে স্বাধীনতার অর্থ, ব্যঞ্জনা ও ভাবকল্পকে বহুদূরগামী স্বপ্নের মতোন প্রসারিত করবেন মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে। স্বাধীনতাকে দিনযাপনের ভাবনায় আর ভবিষ্যতের সুখজাগানিয়া রোমাঞ্চের পথে একটি অদেখা নান্দনিক ভুবনের দিকে নিয়ে যাবেন। মানবাত্মার অতল গভীরে উড়ে উড়ে স্বাধীনতার অনিন্দ্য প্রভা ও দ্যোতনাকে  কোকিলের সুর-ব্যঞ্জনায় নিত্য গুঞ্জরিত করবেন এক সুনিবিড় ভালবাসায়।
স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা দেন দার্শনিকেরা; সংগ্রাম করেন রাজনীতিবিদগণ। কিন্তু একে পত্র-পল্লবে সুসজ্জিত করেন, মানুষের তন্ত্রীতে গেঁথে দেন কবিগণ। ‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়...' উচ্চারণটি তো একজন কবির পক্ষেই করা সম্ভব। স্বাধীনতা নিয়ে কাব্যকথা নির্মাণ করেননি-এমন কোনও কবিরই সন্ধান পাওয়া অসম্ভব। বাংলা, উর্দু, হিন্দি, ফারসি, ইংরেজি, স্পেনিশ, আরবি, ফরাসি-সকল ভাষার কবিরাই তাঁদের শ্রেষ্ঠ কবিতাটি রচনা করেছেন স্বাধীনতা আর মুক্তির আলোয় আলোয়। আর জনগণ সেই স্বাধীনতার স্পৃহায় মুক্তির সোপান গড়ে তোলেন।
তুরস্কের একজন কবি ছিলেন। নাম নাজিম হিকমত। রূপকথার মতোই জনপ্রিয় এই কবিকে দীর্ঘ ১৮ বছর কাটাতে হয়েছিল তাঁরই দেশের কারাগারে। সরকারের উদ্ভট আদেশে বাকী জীবনটাও তাঁকে কাটাতে হয় বিদেশে, নির্বাসনে। সে দেশের নৌসেনাদের বিদ্রোহে প্ররোচিত করার অভিযোগে নাজিমের ভাগ্যে জুটেছিল এই শাস্তি। এক যুদ্ধজাহাজে অবস্থিত তাঁর বিচার সভার বর্ণনা করতে করতে তিনি বলেছিলেন, জাহাজের ডেকে শৃংখলাবদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দৌড়াতে হয়েছিল ততক্ষণ, যতক্ষণ না তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তারপর তাঁকে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল পায়খানাঘরে। সেই ঘরের মলের স্তুপে তাঁর কোমর পর্যন্ত ডুবে ছিল। দুর্গন্ধে তাঁর মাথা ঘুরছিল, তখন তাঁর শরীর অবসন্নপ্রায়। এমন সময় তাঁর মনে হয়েছিল, যারা তাঁকে শাস্তি দিতে চায়, তারা সবাই তাঁর দিকে তাকিয়ে রয়েছে-দেখতে চাইছে কখন তিনি এই অসহ্য যন্ত্রণা আর অত্যাচারে ভেঙে পড়েন। কিন্তু এক অভূতপূর্ব গর্ববোধে হৃতশক্তি ফিরে পেলেন তিনি। শুরু করলেন গান, গলা ছেড়ে চিৎকার করে তিনি গান গাইতে লাগলেন-নিজের রচিত গান-কৃষকের গান, খামারের গান, প্রেমের গান। অত্যাচারীর অত্যাচার আর শরীরের সমস্ত নোংরা ও যন্ত্রণা যেন মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে গেল।...
গান, হ্যাঁ গান, গানের ভূমিকা বাদ দিয়ে ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসও লেখা সম্ভব নয়। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারির জনতা গান গেয়েই বাস্তিল দুর্গ দখল করেছিল। বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার স্বীকৃতি আদায়ের জন্যে, সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনার জন্যে প্রচার-প্রচারণার অসংখ্য পত্র-পত্রিকার মতোই সৃষ্টি হয়েছিল সংখ্যাতীত সঙ্গীত। এইসব গানে উচ্চকিত হয়েছিল গণদাবি, জন-আকাঙ্ক্ষা। বিপ্লব যতই এগিয়ে চলেছে, গানের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে স্বৈরাচারী রাজা, অভিজাতদের বিরুদ্ধে তীব্র দ্রোহে। গানের রচয়িতারা কোনো এক বিশেষ সম্প্রদায়ের ছিল না। সমস্ত বৃত্তির লোকেরাই গান লিখত, সুর করত, কাগজে ছেপে বিক্রি ও বিলি করত। কদাচিৎ গানের সঙ্গে স্বরলিপি থাকতো, বেশির ভাগ গানই হত পুরনো কোনো গানের সুরে। রচয়িতা নিজে কিংবা অন্যরা বেহালা বাজিয়ে গান গেয়ে বেড়াত। আর গানের কলি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ত ফরাসি দেশের পথে-প্রান্তরে। যার মূল কথাই ছিল স্বাধীনতা।
একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের উত্তরাধুনিক সময়ে, এই ২০১২ সালে, স্বাধীনতা হলো রুশোর মতো আত্মজিজ্ঞাসায় চিৎকার করা; নাজিমের মতো গলা খুলে মুক্তির গান গাওয়া, যে গানের স্মৃতি এখনো মিশে আছে মহান ফরাসি বিপ্লবের পরতে পরতে এবং বিশ্বের প্রতিটি মুক্তিকামী উদ্যোগে। স্বাধীনতাকে সামনে রেখে আত্মসমীক্ষার মাধ্যমে মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় ও মহৎ কাজ আর কিছুই নেই।  এই কাজটিই এখন অতীব গুরুত্বের সঙ্গে করা দরকার। মনে রাখা দরকার, রাজনৈতিক দ্বৈরথ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের প্রবল ঘোলাজলের ঘূর্ণিমগ্ন বেনোস্রোতে সকল হিংসা-বিদ্বেষ থেকে নন্দনতাত্ত্বিক দূরত্বে দাঁড়িয়ে বলতে হবে ‘স্বাধীনতা এক নিবিড় ভালবাসার নাম'। ব্যক্তিগত ভালবাসার সমীকরণে জারিত হয়ে জাতিসত্তার ভালবাসার মোহন বাস্তবতাকে-সকল আধিপত্য, আগ্রাসন, হীনতার বাইরে পবিত্র অস্তিত্বে সংরক্ষিত করতে হবে।

স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে আবেগ ও বাস্তবতার উথাল-পাতাল স্রোত বয়ে গেছে জাতির ইতিহাসের নদী ধরে। এমনও হয়েছে, স্বাধীনতা, স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধও কখনও কখনও আক্রান্ত হয়েছে ভেতর ও বাইরে থেকে। বাইরের আক্রমণগুলো চেনা-জানা: সেগুলো সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও আগ্রাসনবাদ-সৃষ্ট। আর ভেতর থেকে যখন স্বাধীনতা, স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধ আহত-ক্ষত-বিক্ষত-আক্রান্ত হয় রাজনৈতিক স্বার্থান্ধতায়, দলীয়করণে, হীন ষড়যন্ত্রে--তখন সমগ্র জাতিকে সতর্ক হতে হয় বৈকি। ভেতর ও বাইরে থেকে স্বাধীনতা, স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বুনো মোষের মতো ধেয়ে আসা এই ধরনের ঐতিহাসিক সঙ্কটে, বিভ্রান্তির বেনোজলে, শাঠ্য-ষড়যন্ত্রের কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে মানববংশের রক্তাক্ত আর্তর্নাদে মৌলিক সত্যের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি করতে হয় প্রতিটি স্বাধীন সত্ত্বার মানুষকেই।
পৃথিবীর পথে পথে, দেশে দেশে, পরিবারে পরিবারে, যুদ্ধে, সংগ্রামে, দ্রোহে, সঙ্কল্পে, স্বপ্নে মানুষ রক্ত, মৃত্যু, রণাঙ্গণকে মাড়িয়ে এগিয়ে চলে সামনের ভবিষ্যতের দিকে। অতীত নয়, ভবিষ্যতই দাঁড়ায় পথ বাড়িয়ে। যুদ্ধ শেষ হয়, রক্ত শুঁকিয়ে যায়, হিংসার বাণী হাওয়ায় মিলিয়ে যায়  ধ্রুবতম সত্যের প্রতিনিধি হয়ে শেষ নির্যাসরূপে থেকে যায় অমল ভালবাসা। ভালবাসার হাজার প্রদীপ জ্বালানো না গেলে কোনও অর্জনই আর অর্জন থাকে না। হিংসার বলি হয়ে গুমড়ে মরে। হিংসা, দ্বেষ, ষড়যন্ত্র, আত্মম্ভরিতা, ব্যক্তি-দল-গোষ্ঠীর সুপ্ত স্বেচ্ছাচার এবং ভেতর ও বাইরের ক্ষুদ্রতা আর আঘাতকে ঘৃণাভরে পরাজিত ও প্রত্যাখ্যান করে একজন ব্যক্তি-মানুষকে অবশেষে বলতে হয় ‘স্বাধীনতা এক নিবিড় ভালবাসার নাম।' ঐক্য ও সৌহার্দ্যের মিলিত শক্তির কাছে মানুষ ছুটে এসে তখনই সম্মিলিত কণ্ঠে বলে ওঠে: ‘পৃথিবী একটি পরিবার।' এসো, ‘একতা-মশাল জ্বালি।'
মানুষ শুধু বাস্তবের ব্যাখ্যাই করে না, সে ব্যাখ্যার আলোতে ভবিষ্যতের স্বপ্নও দেখে। দেশ ও পৃথিবীর মানুষকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।  যে স্বপ্ন এবং এগিয়ে যাওয়া সার্বজনীন মানবসমাজের জন্য জরুরি, সত্য এবং কল্যাণকর। স্বাধীনতা তো তেমনি স্বপ্ন দেখিয়েছে পৃথিবীর দেশে দেশে - বাংলাদেশেও। বার বার নিয়ে গেছে রণাঙ্গনে, যুদ্ধে। মানবমুক্তির জন্য সেইসব যুদ্ধযাত্রাও তো এক একটি মহান স্বপ্নযাত্রা। মানবমুক্তির এক একটি মহতী পদযাত্রা। অশিক্ষা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, কুপমন্ডুকতা, দলীয়করণ, স্বেচ্ছাচার, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা, মুক্তি, প্রকৃত আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের ঠিকানায় অভিযাত্রা। এই পথচলাই বাংলাদেশের সাহসী মানুষের ঐতিহাসিক সংগ্রামের আরেক নাম। কবি যাকে বলেছেন: ‘মুক্তির অপূর্ণ সংগ্রাম'। এ কথাটিই হেনরি ডেভিড থরো বলেছেন আরেকটি আঙিকে: ‘‘রাষ্ট্র যে পর্যন্ত ব্যক্তিকে উচ্চতর ও স্বাধীন ক্ষমতা হিসাবে স্বীকৃতি না দেয়, যা তার নিজের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের উৎস, এবং যে পর্যন্ত ব্যক্তির সঙ্গে সে অনুসারে আচরণ না করে-ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকারের কোনও মুক্ত ও জ্ঞানালোকিত রাষ্ট্র হবে না।’’
মানুষকে দূরে সরিয়ে, আলাদা করে, বিভক্ত করে, জনতাকে খন্ড-বিখন্ড করে, জনগণের মধ্যে বিভেদের-কালাপাহাড় তুলে কি সম্ভব মিলিত কণ্ঠে কোনদিনও গাওয়া ঃ ‘স্বাধীনতা এক নিবিড় ভালবাসার নাম'। হিংসা ছড়িয়ে তো ভালবাসার গান গাওয়া যায় না?  অথচ মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই ভালবাসার গান গাইতে চায়,  স্বাধীনতার গান গাইতে চায়। হিংসার গান গাইতে চায় না, ঐক্যের প্রতিধ্বনি করতে চায়। স্বাধীনতার চল্লিশোর্ধ বছরে মানুষের কণ্ঠে ভালবাসার গান হয়ে, ঐক্যের ধ্বনি হয়ে, সতত উচ্চারিত হচ্ছে ‘স্বাধীনতা'। জনগণের সেই কণ্ঠস্বর ইতিহাসের মহাপ্রাচীরে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে  গ্রাম থেকে শহরে, নগরের অলিন্দে-অলিন্দে, বন্দরে-সাগরে-জাহাজে-পর্বতে--সারা বাংলাদেশে--পৃথিবীর কেন্দ্রে ও প্রাšে — প্রান্তে--মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিকক্ষণে স্বাধীনতা ও মুক্তির আলোয় উদ্বেলিত সমগ্র জাতিসত্তা, অতীতের অর্জনকে সঙ্গী করে ভবিষ্যতের স্বর্ণালী পথে সূচিত অভিযাত্রা নিবিড় ভালবাসার শক্তিতে পৌঁছাবে সাফল্যের কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। (মুহম্মদ আলতাফ হোসেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলাম লেখক)

Read more »

বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১২

কবিতা ‘টোকাই’ কবি-মোঃ কলিমুদ্দিন মিঞা

‘টোকাই’
কবি-মোঃ কলিমুদ্দিন মিঞা

এই ছোঁড়া তোর নাম কিরে?
করিস কি তুই লোকের ভিড়ে!
হেথা দেখি নিত্য ভোর!
মা-বাপ-ভাই নাইকি তোর?
থাকিস কোথায় খাসবা কি?
আমার কাছে বল দেখি?

আমার নাম সুরুজ আলী,
ঘুরি কেবল অলি গলি,
একাত্তরের যুদ্ধ কালে-
মা-বাপ গেছে গুলির তলে।
ঈশ্বর্দীর ঐ ইষ্টিশনে
থাকি আমি রাত্রি দিনে।
ক্ষুধার জ্বালায় পরান যায়,
হাত পেতে তাই ভিক্ষা চায়।
কারো মনে দয়া হলে
দু’চারটা পয়সা মিলে।
ওটা দিয়ে মুড়ি কিনি,
পেটের জ্বালায় খাই তখুনি।

আঁ-! তাহলে তুই ভাত খাসনা?
ভাত পাব কৈই কেউ দেয়না!
হোটেলের ঐ, এঁটেচুটে
ফেলে দিলে খায় তা খুটে,
তাইতে কি সুখ আছে ভাই
কুকুর শালাও ভাগ বসাই।
  

Read more »

Ruby