আফতাব হোসেন, চাটমোহর (পাবনা) থেকে: “ও বউ ধান ভানেরে ঢেকিতে পাড় দিয়ে/ঢেকি নাচে বউ নাচে হেলিয়া দুলিয়া/ওবউ ধান ভানেরে../প্রয়ত পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের চিরায়ত গ্রাম-বাংলার চাটমোহরের ঐতিহ্য ঢেঁকি এখন আর নেই। বর্তমানে যুগের চাহিদায় যান্ত্রিক নির্ভর হওয়ায় এক সময়ের ঢেঁকি গ্রাম বাংলায় এখন আর দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এক সময়ে চাটমোহর তথা পাবনা জেলার সব অঞ্চলে ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানতেন মহিলারা। ঢেঁকির তালে তালে মহিলাদের গান গাওয়ার রেওয়াজ ও ছিল। এখন যান্ত্রিক নির্ভর হয়ে পড়ছেন মহিলারা। বিয়ে শাদীর উৎসবেও ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল ঢেঁকিছাঁটা চালের খির ও পায়েস। জীবিকা অর্জনের মাধ্যমও ছিল ঢেঁকি। অনেক মহিলা এ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বিজ্ঞান ও পযুক্তির কাছে ঢেঁকি আজ পরাজিত। ঢেঁকি আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে মুছে যাওয়ার কারনে অনেক মহিলারা আজ বেকার হয়ে গেছ্।ে তারা বর্তমানে পেশাচ্যুত। প্রত্যেকেই এখন জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। ঢেঁকি এখন শুধু রূপ কথার গল্পের মতো শুনায়। গ্রাম গঞ্জে মিনি রাইস মিল গড়ে উঠার কারণে তা আজ বিলুপ্ত হতে বসেছে। সভ্যতার প্রয়োজনে ঢেঁকির আবির্ভাব হয়েছিল। আবার গতিময় সভ্যতার যাত্রপথে ঢেঁকিকে বিদায় জানিয়েছে বর্তমান সমাজ। তাই আজ আর গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আর নাই। সনাতণী পেশার বাহন ঢেঁকি অদূর ভবিষ্যতে যাদুঘরের দর্শনীয় বস্তুতে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
