এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও বেধড়ক পিটুনিতে শ্রমিক নাসরিন, নাজমা, মর্জিনা, জহুরা, চামেলি, হাফিজা, তাসলিমা, মালা, রুনিয়া, বিউটি, মিনারুল, জাহাঙ্গীর, জ্যোতি বিশ্বাস, শিখা, রঞ্জনাসহ অর্ধশত শ্রমিক আহত হন। এ পর্যায়ে শ্রমিকরা ইপিজেডের ভেতর থেকে পুলিশের প্রতি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষে কয়েকশ’ শ্রমিক আহত হয়েছে বলে ইপিজেডের ভেতরে থাকা শ্রমিক, প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইপিজেড হাসপতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহায়মেনুল ইসলাম জানান, এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেশির ভাগ শ্রমিককে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বরদী ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দুলাল উদ্দিন, এএসআই নুরুল আমিন, আনসারের প্লাটুন কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, আনসার বোরহান উদ্দিন, শ্রমিক বীনা খাতুনসহ কয়েকজনকে।
এদিকে, ঈশ্বরদী ইপিজেডের হাসপাতালে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ইসরাইল হোসেন, পুলিশ সদস্য ইমরুল হোসেন, আনসারের প্লাটুন কমান্ডার রুস্তম আলী, সেকশন ইন্সপেক্টর দিনার আলম সহ বেশ কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে।
ইপিজেড সূত্র জানায় ইপিজেডের রোশিতা নীটওয়্যার লিঃ, মেগাটেক্স নীটার্স লিঃ, এবা (প্রাঃ) লিঃ, নাকানো (প্রাঃ) লিঃ ও রুলিং বিডি (প্রাঃ) লিঃ-এর সব কারখানা ও অফিস বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আহমেদ, পাবনা র্যাব-১২ ও দাঙ্গা পুলিশ এসে ইপিজেডে অবস্থান নিয়েছে। রোশিতা নীটওয়্যারের শ্রমিকরা জানান, ইপিজেডের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে পুলিশ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা হাজার হাজার শ্রমিকদের বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শামীম হোসেন জানান, পাবনা ও রাজশাহী থেকে ১০ প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ, র্যাব ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। ঈশ্বরদী ইপিজেডের জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদ হাসান জানান, র্যাব-পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি এখন অনেকটা শান্ত। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন শ্রমিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
