বাঘা নিউজ ডটকম, আককাস আলী, নওগাঁ ২ ডিসেম্বর : মরার আগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেখে যেতে পারলেই মনের কোণে লুকানো জ্বালা নিবারন হত। দীর্ঘ নিঃস্বাস ফেলে কথাগুলো বললেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আশরাফ আলী। চোখ-মূখ ও শরীরের চামড়া নুয়ে পড়লেও মনের উদ্যাম গতি যেন আজও সেই ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধা যুবকের মত অটল। থানা অথবা জেলায় কোন মুক্তিযোদ্ধাদের সেমিনার-মেটিং হলেই আশরাফ আলী ছুটে যেতেন এবং মানববন্ধন অথবা মিছিলের প্রথম ছাড়িতেই তার পদচারনা। মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউপির জয়পুরদাঙ্গা পাড়া গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দীনের পুত্র। ৪ ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে কোন রকমে সংসার জীবন পাড়ি দিলেও কয়েক দিন আগে একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর শোকে তার মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে। অভাব আর অনটনের মধ্যে তার সংসার জীবন। তবুও হার মােেননি অভাবের কাছে। মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী আজকালের খবরকে জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমার স্বাধীনতার পিতা আর আব্দুল জলির আমার সংগঠনিক পিতা। সেই সাংগঠনিক পিতার উৎসাহ আর উদ্দীপনায় নওগাঁ জেলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। সেই মহান নেতার অক্লান্ত পরিশ্রমে নওগাঁসহ উত্তরবঙ্গের মানুষ শত কৃষ্টকে বিতারিত করে স্বাধীনতার সুখ ফিরে এনেছে। স্বাধীনতা ফিরে এলেও মনের স্বাধীনতা ফিরে আসেনি বলে জোর দাবী করেন মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী। তার এখন একটায় ভাবনা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেখে মরতে পারলেই জীবন সার্থক, কবরে যেয়েও শান্তি পেতাম বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দালাদের ফাঁসি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী জোর আকুতি কন্ঠে দেশবাসীকে অনুরোধ করেন, আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে যাবেন না বরং তাদের বিপক্ষে থেকে ফাঁসির রায় কার্যকর করুন।
