আমাদের রবি
মকলেছুর রহমান টুটুল।
এক রবির উদয় হয়েছিল
সার্ধশত বছর আগে
এই প্রগাঢ় শ্যামল সম্ভারে,
এই বাংলারই বারান্দায় পড়েছিল তাঁর
দুনিয়া আলোক্করা
সাদা তীক্ষ্ম আলো।
আরও লাল, রক্তিমবর্ণ বিচ্ছুরিত কিরণে
আলোকিত হল সারা বিশ্ব।
এ রবি অস্তমিত হবার নয়
শুধু দিন নয়, রাতকেও আলোকিত করেছে রবি।
ক্ষণ-কাল-মহাকালেও রয়েছে তাঁর
একই রকম আলোর বিকিরণ।
বিশ্ব চিনলো বাংলাকে,
বাঙ্গালীকে, বাংলা ভাষাকে,
আপামোর সাধারণ তাকিয়ে দেখলো
সেই রবিকে, চিনলো রবিকে, বুঝলোও রবিকে।
১৯১৩ সাল-নোবেল কমিটি কর্তৃক
রবি পেলেন নোবেল পদক
আমাদের রবি হল বিশ্বজয়ী।
বাংলার বুকটাও প্রসারিত হল
তাই মোরা গর্ব করে বলি
বিশ্বের মাঝে মোরা গর্বিত বাঙ্গালী।
আমাদের আছে একজন
কালজয়ী,ক্ষণজন্মা
অনির্বাণ রবি,
তিনি আমাদের বিশ্বকবি।
ফাগুনের রূপ
মকলেছুর রহমান টুটুল।
আসল ফাগুন গাছপালা মেললো শাখা-প্রশাখা
ঠিক যেন নববধু সাজ তার।
কী সুন্দর মনোরম পরিবেশ প্রকৃতির
আড়িপাতা চাহনি তার
হাত বাড়িয়ে থাকে, আর বলে ইশারায়
হলোনা হলোনা, আরো আরো সাজিয়ে দাও,
রং ছড়াও রং ছড়াও, লাল, নীল, সবুজ
রং দিয়ে হলিখেলো, রঙের মাঝে ডুবো,
রংতুলিতে রংতুলো চিত্র শিল্পী।
কিন্তু শিল্পী বলে ভারাক্রান্ত মনে
প্রকৃতি, আমি তোমাকে আরো সাজাতে পারি
কিন্তু কখনো বলোনা লাল রংলাগাতে
ও রং বহুত খরচ করেছি
কেন তুমি জাননা? দেখনি?
সাতচল্লিশ থেকে বাহান্নতে,
ও রঙেই তো রঞ্জিত হয়েছিল
ঢাকা সহ সারাদেশের রাজপথ গুলো।
রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরে
ওই রঙদিয়ে যে ছবি এঁকে গেছেন
বিশ্বের কোন শিল্পীই কী এমন
কালজয়ী তুল্য ছবি আঁকতে পেরেছে বলো?
ফাগুন এসেছো, নিজের রুপ নিয়ে খুঁশি থাক
কারণ তোমাকে সবুজ, নীল, হলুদেই ভালো মানাই।
তোমার রুপ ও বাংলার রুপ একই রুপ
তোমার ও রুপ যেন কোনদিন বিলীন না হয়।
রাত বিরাতে
মকলেছুর রহমান টুটুল।
ডাকলে যখন
রাত তখন
তাহলেতো করতেই হবে দেখা তোমার সাথে।
অনেক পর
হবে ভোর
কপোত-কপোতীরা তখনো আছে ওঁৎ পেতে।
রাত পোহাবে
সকাল হবে
তখন মনেতে সূর ওঠে প্রথম প্রভাতে।
একটাই কারণ
দুটিই এক পরান
সারারাত কাটালামও প্রেমগীতে।
থাকেই ক’জনে
নিবিড় নির্জনে
গল্পগান আর খেলার ছলে মেতে।
আমরাই দু’জন
করি কুহুকুজন
নিশি কুটুম আমরাই রাত বিরাতে।
