কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের বরাত দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।ঘটনাস্থলে উপস্থি ত থেকে মুন্সিগঞ্জের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ তদারকী করছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল আলম ও পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান পিপিএম । ঘটনাস্থল থেকে বুধবার সকাল ১০টায় পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান পিপিএম বিজয় নিউজ কে জানান , এপর্যন্ত ডুবুরিরা ৪০টি লাশ উদ্দার করতে সক্ষম হয়েছে। ডুব লঞ্চে আরো অধিক সংখ্যক লাশ থাকতে পারে এমনকি বেশ কিছু লাশ ভেসে যেতে পারে বলে তিনি তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। তিনি আরো জানান লাশ উদ্দার হওয়ার সাথে সাথে তাদের স্বজনদের কাছে তাৎক্ষনিক হস্তান্তর করা হচ্ছে। লঞ্চডুবির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়েছিল। তবে নৌবাহিনী রাত ১০টা থেকে ১ ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালায়। এসময় আরো ৫টি লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এর মধ্যে ৪ নারী ও ১ জন পুরুষ রয়েছেন।বুধবার সকালে নৌবাহিনীর চিফ পেটি অফিসার শেখ জামাল জানান, ভোর ৪টা থেকে তারা আবার উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। তাদের ১০জনের মতো ডুবুরি কাজ করছেন।বিআইডব্লিউটিএ এর ঊর্ধ্বতন উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বিজয় নিউজকে জানান, লাশ যেন ভেসে অন্য কোথায়ও চলে না যায় সে জন্য কোস্টাগার্ড ও দমকলবাহিনী টহলে রয়েছে।
এদিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে এসেছে। হামজা ও রুস্তুম ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে উদ্ধারে কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে লঞ্চটিকে উদ্ধার করতে পারলে আরও বেশকিছু লাশ পাওয়া যেতে পারে।বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান জানান, লঞ্চটি প্রায় ৭০ ফুট পানির নিচে ডুবে ছিল।
প্রসঙ্গত, যতবারই লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে, ততবারই আগে রুস্তমকে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হামজার সহযোগিতা ছাড়া কোনো উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয় না। ঘটনা ঘটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজে হামজা পাঠানোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্ধার কাজে দেরি হয় এবং হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।। উদ্ধারকারী জাহাজের চারদিকে অর্ধশতাধিক ট্রলার নিয়ে ভিড় করছেন নিখোঁজদের স্বজনরা।উল্লেখ্য, সোমবার রাত ২টার দিকে প্রায় দু’শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি শরীয়তপুর-১ লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার উত্তর চরমসুরা এলাকায় মেঘনা নদীতে ডুবে যায়।
