বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

নওগাঁয় শীতকালীন শাকসবজির নায্যমূল্য না পেয়ে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারছেনা কৃষক

মোঃ আককাস আলী, নওগাঁ প্রতিনিধি :: নওগাঁ শীতকালীন শাকসবজির আবাদ বাড়লেও নায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় গত মৌসুমের চেয়ে চারগুণ বেশী পরিমাণ জমিতে শীতকালীন শাকসবজি ও তরিতরকারীর আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে বিভিন্ন শাকসবজি ও তরিতরকারীর আবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এ মৌসুমে এসব চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েন। কৃষকরা শীতকালীন সবজি ও তরিতরকারী চাষ করে ব্যাপক সফলতাও পেয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূল ও সার সংকট না থাকায় আলু, শিম, বেগুন, মুলা, পালংশাক, লালশাক, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, ছাঁচি লাউসহ সবজি ও অন্যসব তরিতরকারীই বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এসব কৃষিপণ্যের অব্যাহত দরপতনে লাভতো দূরে থাক উৎপাদন খরচই উঠছেনা। অব্যাহত লোকসানের মুখে কোমর সোজা করে দাঁড়াতেই পারছেনা কৃষক। এ এলাকার শত শত কৃষক শীতকালীন শাকসবজি বিক্রি করে বোরো চাষের খরচ যোগায়। এবার শাকসবজির দাম না পাওয়ায় সেসব কৃষকের করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তরিতরকারী থেকে কাঙ্খিত অর্থপ্রাপ্তি না ঘটায় বোরো আবাদের খরচ যোগাতে কৃষকরা এখন বিভিন্ন এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়াসূদে ঋণ নিচ্ছে। এতে বোরো ফসলের সিংহভাগই চলে যাবে দাদন ব্যবসায়ীদের পকেটে। জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, এবার প্রতিমণ নতুন আলু ১শ’ ৮০ থেকে ২শ’ টাকা, বেগুন ৩শ’ থেকে ৩শ’ ২০, টমেটো ১শ’ ৫০ থেকে ১শ’ ৬০, পিঁয়াজ ২শ’ ৫০ থেকে ৩শ’, শিম ৩শ’ ৫০ থেকে ৩শ’ ৬০ ও কপি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, গত মৌসুমেও শীতকালীন শাকসবজির দাম ছিল অনেক বেশী। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত মৌসুমে উপজেলায় মাত্র ১৫৯শ’ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন শাকসবজি ও তরিতরকারীর চাষাবাদ হয়েছিল। কিন্তুু চলতি মৌমুমে এখানে ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে কৃষক শীতকালীন সবজি ও তরিতরকারীর চাষাবাদ করেছেন। নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্বাস আল্ ীজানান, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শীতকালীন শাকসবজির ফলন ভাল হয়েছে, তবে নায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক লোকসান গুণতে হচ্ছে।
Ruby