মিজানুর রহমান হেলাল, ঢাকা :: ওই প্রতিবেদন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংসদে উত্থাপিত হতে পারে। গত বুধবার ৩৮৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। জানা গেছে, সাবেক সরকার প্রধান, সেনা প্রধান, পুলিশ প্রধানের বিচারের বিষয়টিও সংসদের অনুমোদনের পর সরকারের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হবে।ধরা খাচ্ছেন ওয়ান-ইলেভেনের নায়করা। অবেশেষে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে তাদের।চলতি মাসেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। এর আগে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়ান-ইলেভেনের নায়কদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করা হবে জাতীয় সংসদে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওই প্রতিবেদন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংসদে উত্থাপিত হতে পারে।সূত্র জানায়, যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে তারা হচ্ছেন,সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান ড. ফখরুদ্দীন আহমদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন উ আহমেদ, সে সময় একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুই পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী এবং কর্নেল শামসুল আলম খান (কর্নেল শামস)। এদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে বিচার শুরু করতে বলা হয়েছে। ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সেনা-ছাত্র সংঘর্ষ ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান ও সাবেক সেনাপ্রধানসহ পাঁচজনকে প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশসম্বলিত প্রতিবেদন সংসদে আসছে। মেনন জানান, দিনের কার্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারির ‘অর্ডার অব দ্য ডে’তে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপনের সময় সাধারণ আলোচনার জন্য স্পিকারের কাছে সময় চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। জানা গেছে, ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-সেনা সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ ডিসেম্বর ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ ছাড়াও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। গত বুধবার ৩৮৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। জানা গেছে, সাবেক সরকারপ্রধান, সেনাপ্রধান, পুলিশপ্রধানের বিচারের বিষয়টিও সংসদের অনুমোদনের পর সরকারের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এর প্রথম ২৯ পৃষ্ঠায় রয়েছে কমিটির মূল প্রতিবেদন। এগারোটি পর্যবেক্ষণ ছাড়াও তেরটি সুপারিশ রয়েছে এতে। বাকি পৃষ্ঠাগুলোয় সাব-কমিটি সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে ৪২টি বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। উপস্থাপিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংবাদপত্রের কাটিং, বিবিসি-ভয়েস অব আমেরিকাসহ বাংলাদেশ বেতারের প্রতিবেদনের লিখিত রূপ, কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেয়া ছাত্র-শিক্ষকদের বক্তব্য রয়েছে। তাছাড়া ওই সময় দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট আরো অনেকের বক্তব্য এবং সাব-কমিটির ১১টি বৈঠকের সিদ্ধান্ত সংযুক্ত হয়েছে। বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোয় সেসময় প্রচারিত সংবাদের একটি সিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, সাব-কমিটি ৮ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। পরে ২০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির মূল কমিটি তা অনুমোদন করে।
এর আগে ২০০৯ সালের ৮ জুলাই পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত সাব-কমিটি গঠিত হয়।সূত্র জানায়, কমিটিতে বিরোধী দলীয় সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ প্রথম দিকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিলেও শেষের দিকে তিনি কোনো বৈঠকে অংশ নেননি। সে কারণে এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যদের বক্তব্য নেই। এরই মধ্যে ছাপা হওয়া প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে সাব-কমিটি বলছে, ছাত্র-সেনা সংঘর্ষ পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইচ্ছাকৃত নির্লিপ্ত ছিল।
মেনন জানান, কমিটি মনে করে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে। তারা নিজেদের দায়িত্বের বাইরে সীমা লঙ্ঘন করেছে। একইসঙ্গে তখনকার পুলিশের মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ কমিটির আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিষয়ে ওই সংস্থার হস্তক্ষেপ বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা থাকতে পারে।
কিন্তু তা কোনো অবস্থায় বেসরকারি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ওই গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবদেনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে। ওই সংস্থা তার দায়িত্বের বাইরে কাজ করেছে। এছাড়া ওই ঘটনার জন্য পুলিশ ও র্যাবের বাড়াবাড়িও দায়ী।